মেসেজিং অ্যাপের আড়ালে ভয়ংকর ব্যবসা! টেলিগ্রামে অবাধ পর্নোগ্রাফি ও ব্ল্যাকমেইল চক্রের সন্ধান মিলেছে। টেলিগ্রামে গড়ে উঠেছে একাধিক গোপন চ্যানেল ও গ্রুপ, যেখানে মাসিক সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে নারীদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও। আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে—৫০০ টাকা বিকাশে পাঠালেই দেওয়া হচ্ছে ‘প্রিমিয়াম লিংক’। একাধিক চ্যানেলের এডমিনের সঙ্গে ছদ্মনামে যোগাযোগ করে পাওয়া গেছে বিকাশ ও নগদ নম্বর। যাচাই করে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন নামে রেজিস্ট্রেশন করা একাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রথমে ফেসবুকের ফেক আইডি থেকে লোভনীয় পোস্টের মাধ্যমে টেলিগ্রাম চ্যানেলে আনা হয় ব্যবহারকারীদের। এরপর জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ছবি দেখিয়ে চালানো হয় প্রিমিয়াম বিক্রির প্রচারণা। এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্কদের ভিডিও থাকার দাবিও করা হয়—যা আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
ভিডিও কল ও সরাসরি ‘হোম সার্ভিস’-এর প্রস্তাব দিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিপিএন, ফেক নম্বর ও এনক্রিপশন ব্যবহারের কারণে অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিজিটাল স্বাধীনতার আড়ালে কি বিস্তৃত হচ্ছে অপরাধের সাম্রাজ্য? এখনই সময় কঠোর নজরদারির।