আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার ও মানসিক চাপের কারণে নির্ঘুম থাকা এখন একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহ ও মনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। এর কম হলে প্রথমেই প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার ওপর। নির্ঘুম অবস্থায় মনোযোগ কমে যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয় এবং স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে কর্মক্ষেত্রে ভুলের হার বাড়ে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
শুধু মানসিক নয়, শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও নির্ঘুম থাকার প্রভাব গভীর। নিয়মিত কম ঘুম হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। পাশাপাশি শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় ডায়াবেটিসের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
নির্ঘুম থাকার আরেকটি বড় বাজে দিক হলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে না, ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে জটিল সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব উদ্বেগজনক। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ঘুমের অভাব বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও খিটখিটে মেজাজের জন্ম দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি হতাশা ও অন্যান্য মানসিক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, নিয়মিত ঘুমের সময় ঠিক রাখা, ঘুমের আগে মোবাইল ও অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহার কমানো এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে নির্ঘুম থাকার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব। সুস্থ জীবনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম যে অপরিহার্য, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।