নতুন বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া বাংলাদেশে একটি ঐতিহ্যে পরিণত হলেও, ২০২৬ সালেও সেই উৎসব পূর্ণতা পায়নি। বছরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এখনো সব পাঠ্যবই হাতে পায়নি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে মুদ্রণ কাজ পিছিয়ে যাওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
এনসিটিবির ১১ জানুয়ারির তথ্যমতে, এখনো প্রায় ২ কোটি ৯২ লাখ ১৮ হাজার ৬০৯টি বই সরবরাহ করা বাকি, যা মোট বইয়ের ১৩.৬৩ শতাংশ। যদিও প্রাথমিক স্তরের বিতরণ প্রায় শেষ, তবে মাধ্যমিক পর্যায়ে এই ঘাটতি পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান জানিয়েছেন, ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮ কোটি ৫০ লাখের বেশি বই সরবরাহ করা হয়েছে এবং ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিকল্প হিসেবে এনসিটিবি তাদের ওয়েবসাইটে ডিজিটাল সংস্করণ আপলোড করলেও ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর কাছে তা পৌঁছাচ্ছে না। প্রতিবছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি এনসিটিবির ব্যবস্থাপনা নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর সংশয় ও প্রশ্ন তৈরি করেছে।