News মানুষের শরীরের জিনোম প্রায় ৩০০ কোটি অক্ষর দিয়ে গঠিত

মানুষের শরীরের জিনোম প্রায় ৩০০ কোটি অক্ষর দিয়ে গঠিত

সোশ্যাল শেয়ার

মানবদেহের প্রতিটি কোষে লুকিয়ে আছে এক বিস্ময়কর কোড—A, T, C ও G। দেখতে সাধারণ চারটি ইংরেজি অক্ষর হলেও, এই কোডই নির্ধারণ করে আমাদের চোখের রং, উচ্চতা, এমনকি কিছু রোগের ঝুঁকিও। বিজ্ঞানের ভাষায় এই চার অক্ষর হলো ডিএনএ (DNA)-এর মূল ভিত্তি, যা জীবনের নির্দেশনামা হিসেবে কাজ করে।

A মানে অ্যাডেনিন (Adenine), T মানে থাইমিন (Thymine), C মানে সাইটোসিন (Cytosine) এবং G মানে গুয়ানিন (Guanine)। এই চারটি রাসায়নিক উপাদান নির্দিষ্ট নিয়মে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তৈরি করে ডিএনএ-এর ডাবল হেলিক্স বা পাকানো সিঁড়ির মতো গঠন। এখানে A সবসময় T-এর সঙ্গে এবং C সবসময় G-এর সঙ্গে জোড়া বাঁধে। এই সুনির্দিষ্ট জোড়াই ডিএনএ-কে স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তোলে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের শরীরে প্রায় ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) এমন A, T, C ও G-এর ক্রম বা সিকোয়েন্স রয়েছে। এই বিশাল কোডের ভেতরেই লেখা আছে আমরা কীভাবে বেড়ে উঠব, আমাদের শরীর কীভাবে কাজ করবে এবং কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পৃথিবীর সব মানুষের ডিএনএ প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ একই, কিন্তু বাকি ০.১ শতাংশ পার্থক্যই আমাদের প্রত্যেককে আলাদা করে তোলে।

এই চার অক্ষরের কোড আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব এনেছে। জেনেটিক টেস্টের মাধ্যমে এখন আগেভাগেই জানা যাচ্ছে কার ডায়াবেটিস, ক্যানসার বা হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি। কোভিড-১৯-এর মতো ভাইরাসের জিনগত গঠন বিশ্লেষণ করেও বিজ্ঞানীরা দ্রুত টিকা তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন—যার পেছনেও রয়েছে A, T, C ও G-এর পাঠোদ্ধার।

শুধু চিকিৎসা নয়, অপরাধ তদন্ত, পিতৃত্ব নির্ধারণ, এমনকি হারিয়ে যাওয়া মানুষ শনাক্ত করতেও এই ডিএনএ কোড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একটি চুল, রক্তের দাগ বা ত্বকের কোষ থেকেই বেরিয়ে আসছে সত্য।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই চার অক্ষরের সঠিক ব্যবহার মানবজীবনকে আরও নিরাপদ ও দীর্ঘ করতে পারে। তবে একই সঙ্গে ডিএনএ তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।  বলা যায়, A, T, C ও G—এই চারটি অক্ষরই আমাদের অস্তিত্বের নীরব গল্পকার। কাগজে কলমে ছোট মনে হলেও, এদের ভেতরেই লুকিয়ে আছে মানবজীবনের সবচেয়ে বড় রহস্য।

সোশ্যাল শেয়ার