মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান ভয়াবহ ত্রিমুখী সংঘর্ষের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তে। গত কয়েক দিনের লাগাতার গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তার অভাবে তেচ্ছি ব্রিজ সংলগ্ন পূর্বপাড়ার অন্তত ১২টি পরিবার বাড়িঘরে তালা দিয়ে আত্মীয়দের বাসায় আশ্রয় নিয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে আবু তাহের নামে এক বাসিন্দার উঠানে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলির খোসা এসে পড়লে জনমনে আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হয়। স্থানীয়রা জানান, নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। গত রবিবার মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান গুরুতর আহত হয়, যার অবস্থা বর্তমানে সংকটাপন্ন। এছাড়া সোমবার লম্বাবিল সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ হানিফ নামে এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ও পুলিশ টহল জোরদার করেছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইনামুল হাফিজ নাদিম জানিয়েছেন, আহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। বর্তমানে পুরো সীমান্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা স্থায়ী নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।