News রাশিয়া ভারতে নির্মাণ করছে দেশের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র

রাশিয়া ভারতে নির্মাণ করছে দেশের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র

সোশ্যাল শেয়ার

ভারতের সবচেয়ে বড় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তামিলনাড়ুর কুণ্ডনকুলমে নির্মাণাধীন এই কেন্দ্রটিতে ছয়টি রিঅ্যাক্টর থাকবে, যেগুলোর সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা হবে ছয় হাজার মেগাওয়াট। নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পুতিন এ কথা বলেন।

তিনি জানান, ‘ভারতের সবচেয়ে বড় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র কুণ্ডনকুলম নির্মাণে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছি। ছয় রিঅ্যাক্টরের মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়েছে এবং বাকি চারটির নির্মাণকাজ চলছে। পুরো কেন্দ্রটি চালু হলে ভারতের বিদ্যুৎ প্রয়োজন মেটাতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও একই বক্তব্য দেন পুতিন। দুই দিনের সফরে তিনি ভারতে পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। সফরকালে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। শুক্রবার রাতেই তিনি ভারত ত্যাগ করেন।

পুতিন আরও জানান, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম ইতোমধ্যে কুণ্ডনকুলমের তৃতীয় রিঅ্যাক্টরের জন্য প্রথম চালানের পারমাণবিক জ্বালানি পাঠিয়েছে। রাশিয়ার নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে উৎপাদিত এই জ্বালানি কার্গো বিমানে করে ভারতে পাঠানো হয়েছে।

২০২৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী, তৃতীয় ও চতুর্থ রিঅ্যাক্টরের পুরো কার্যকালজুড়ে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। এ লক্ষ্যে মোট সাতটি কার্গো ফ্লাইটে জ্বালানি পরিবহন করা হবে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে ভারত ও রাশিয়া ছোট স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর, ভাসমান পারমাণবিক কেন্দ্র এবং চিকিৎসা ও কৃষি খাতে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াতে পারে।

পুতিনের দাবি, রাশিয়া ভারতের কাছে তেল, গ্যাস, কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানি ধারাবাহিকভাবে সরবরাহ করে আসছে এবং দ্রুত বর্ধনশীল ভারতীয় অর্থনীতির জ্বালানি নিরাপত্তায় দেশটি একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।

এদিকে চলতি বছরের শুরুতে ভারত ঘোষণা দেয় যে তারা ২০৭০ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য স্থির করেছে—যা বর্তমান উৎপাদনক্ষমতার প্রায় ১০ গুণ। এই লক্ষ্য অর্জনে বড় প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি ছোট চুল্লিগুলোকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে দেশটির সরকার।

সোশ্যাল শেয়ার