News রিলস আসক্তি: Gen Z-এর নতুন ডোপামিন ফাঁদ

রিলস আসক্তি: Gen Z-এর নতুন ডোপামিন ফাঁদ

সোশ্যাল শেয়ার

ডিজিটাল যুগে তরুণদের হাতে মোবাইল দেখলে যেটি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে— তাহলো রিলস। একটার পর একটা ছোট ভিডিও স্ক্রল করতে করতে ঘন্টা কেটে যায় অজান্তেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আপাত বিনোদনই হয়ে উঠছে Gen Z-এর জন্য নতুন ধরনের আসক্তি, যা মাদকের মতোই মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করছে।

প্রতিটি রিল মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেমকে তৎক্ষণাৎ উদ্দীপিত করে। নতুন বা মজার ভিডিও দেখামাত্র ডোপামিনের ছোট্ট “শট” পাওয়া যায়। এই দ্রুত আনন্দ মস্তিষ্ককে আরও রিলস চাইতে বাধ্য করে। ঠিক যেমন মাদক দ্রুত উত্তেজনা দেয়, রিলসেরও আসক্তিমূলক বৈশিষ্ট্য একইভাবে মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে—তবে এটি অনেক সহজলভ্য বলে ঝুঁকিও বেশি।

এই আসক্তির সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো মনোযোগ কমে যাওয়া। ৩০ সেকেন্ডের কন্টেন্টে অভ্যস্ত মন আর দীর্ঘ সময় পড়াশোনা বা কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। এতে শিক্ষাজীবন, পেশাগত দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্রুত পরিবর্তনশীল কনটেন্ট মানসিক অস্থিরতাও বাড়ায়।

সারাক্ষণ অন্যের “পারফেক্ট” জীবন দেখে হীনম্মন্যতা ও হতাশা বাড়ে। রাতে রিলস দেখার অভ্যাস ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। মোবাইলের ভার্চুয়াল জগত বাস্তব সম্পর্ক ও পরিবার থেকে দূরে ঠেলে দেয়।
এর থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে বিশেষজ্ঞরা যেসব পরামর্শ দিয়েছেন তা হলো- অ্যাপ ব্যবহারে সময়সীমা নির্ধারণ, সপ্তাহে একদিন স্ক্রিন-মুক্ত থাকা, বই পড়া বা খেলাধুলার মতো বিকল্প অভ্যাস তৈরি, এবং পরিবারে খোলামেলা আলোচনা— এসবই রিলস আসক্তি কমাতে কার্যকর হতে পারে। রিলস কেবল বিনোদন নয়; এটি এক অদৃশ্য অ্যালগরিদমিক ফাঁদ। তাই এখনই সচেতন হওয়া জরুরি, নয়তো এটি তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

সোশ্যাল শেয়ার