News লন্ডনের টাওয়ারের কালো ডানার প্রেম—রেভেনমাস্টারের নিঃশব্দ প্রজননযজ্ঞ

লন্ডনের টাওয়ারের কালো ডানার প্রেম—রেভেনমাস্টারের নিঃশব্দ প্রজননযজ্ঞ

সোশ্যাল শেয়ার

স্কেইফ (Skaife) এবং তাঁর নতুন ছোট্ট বন্ধু। সৌজন্যে- হিস্টোরিক রয়্যাল প্যালেসেস।

টাওয়ার অব লন্ডনের অঙ্গনে বসবাসরত রেভেন বা কালো কাকদের নিয়ে শতাব্দি-প্রাচীন উপকথা আজও জীবন্ত। বিশ্বাস করা হয়—যেদিন এই পাখিরা টাওয়ার ছেড়ে উড়ে যাবে, সেদিনই রাজ্য বিপদের মুখে পড়বে। তাই রেভেনদের যত্ন নিতে নিযুক্ত আছেন এক বিশেষ অভিভাবক—ক্রিস স্কাইফ, যিনি ‘রেভেনমাস্টার’ নামে পরিচিত।

কিন্তু শহরের কোলাহলপ্রবণ, ভিড়ভাট্টায় মোড়া লন্ডনে প্রেম ও প্রজননের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা সহজ নয়। কারণ বুনো রেভেনরা সাধারণত নিভৃত, নিস্তব্ধ পাহাড়চূড়ায় বা নির্জন গাছের ডালে বাসা বাঁধে। মানুষের শব্দ আর ভিড় তাদের মনোযোগ ব্যাহত করে, এমনকি ডিম নষ্ট করতেও বাধ্য করে। পূর্ববর্তী সময়ের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর স্কাইফ যখন বহু দশকের ব্যবধানে আবার প্রজনন উদ্যোগ নিলেন, তিনি জানতেন কাজটি কঠিন হবে।

সৌভাগ্যক্রমে ২০১৮ সালে তিনি পেলেন সাসেক্সের দুই দক্ষ প্রজননকারী রেভেন—হুগিন ও মুনিন। কিন্তু সমস্যা ছিল অন্যত্র: এই পাখিরা বদল পছন্দ করে না। তাই স্কাইফ প্রথমেই করলেন এক অভিনব কাজ—তাদের পুরোনো আবাসের প্রতিটি কোণ ছবি তুলে লন্ডনে হুবহু পুনর্গঠন করলেন। আর টাওয়ারের ভিড় থেকে আড়ালে, পরিখার শান্ত কোণে তিনি তাদের জন্য বানালেন নির্জন ঘেরা ঘর। কৃত্রিম ছাদ, নরম আলো, ডিম ফোটানোর বাক্স—সবকিছু এমনভাবে সাজানো, যেন সাসেক্সের শান্ত প্রান্তরই এখানে স্থান করে নিয়েছে।

প্রথমদিকে হুগিন-মুনিন কোনো আগ্রহ দেখায়নি। স্কাইফ তাদের সামনে রাখলেন ডালপালা, ঘাস, আলপাকা পশম—বাসা তৈরির উপকরণ। তারা কিছুই নিল না। স্কাইফ ভাবলেন, হয়তো এ বছরও সফল হবেন না।

হঠাৎ একদিন পাখিদ্বয় আচরণ পাল্টে স্কাইফকে আক্রমণ করতে শুরু করল—যা রেভেনদের প্রজননের পূর্বলক্ষণ। কয়েক দিনের মধ্যেই তারা বাসা বানিয়ে ফেলল। শিগগিরই তাতে দেখা দিল পাঁচটি ডিম। একুশ দিনের উষ্ণতায় এপ্রিলের শেষে চারটি ডিম ফুটে বের হলো চঞ্চল ছানারা।

স্কাইফ জানতেন—টাওয়ারের ভবিষ্যৎ রেভেন দল গঠনের জন্য অন্তত একটি ছানা রাখতে হবে। তাই জন্মের পর থেকেই তিনি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে ছানাগুলোকে নিজের ঘরেই রাখলেন। সবচেয়ে ছোট ছানাটি, জর্জি, তার বিশেষ স্নেহ পেল। প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা খাওয়ানো, পরিষ্কার করা, আর ছানাটির দুষ্টুমিভরা হেঁটে বেড়ানো—সবই সামলাতে হলো তাকে।

জর্জির লাফিয়ে স্কাইফের কাঁধে ওঠা, আবার সেখানেই মলত্যাগ করা—সবই যেন এক মানব-পাখি বন্ধনের হৃদয়স্পর্শী ও হাস্যরসাত্মক অধ্যায়। আজ জর্জি টাওয়ারের স্থায়ী বাসিন্দা হতে প্রস্তুত, আর স্কাইফ গর্বিত এক পাখিবাবা—তার ভাষায়, “আমি গর্বে ভরে আছি। সত্যিকারের সুখী বাবা।”

সোশ্যাল শেয়ার