উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে নির্মিত হয়েছে সেন্টার ফর ইসলামিক সিভিলাইজেশন (সিআইএসসি)—যা আকারে হোয়াইট হাউসের চেয়ে প্রায় সাত গুণ বড় এবং হলিউড সাইন–এর চেয়ে চার গুণ উঁচু। আংশিক জাদুঘর ও আংশিক শিক্ষা–গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা তিনতলাবিশিষ্ট এ স্থাপনা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২৬ সালের মার্চে এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
সিআইএসসি–এর পরিচালক ফিরদাভস আবদুখালিকভ জানান, উজবেকিস্তানের সমৃদ্ধ ইসলামি ঐতিহ্য ও বিশ্বসভ্যতায় অঞ্চলটির অবদান আধুনিক ও আকর্ষণীয় উপায়ে তুলে ধরাই এই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। ভবনটির নির্মাণে ৮ বছর ধরে ৪০ দেশের ১,৫০০ বিশেষজ্ঞ কাজ করেছেন। কেন্দ্রটির শীর্ষে স্থাপন করা হয়েছে ৬৫ মিটার লম্বা নীল গম্বুজ।
এ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে থাকবে ‘পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়াভিত্তিক শিক্ষাচর্চার’ জোন, যেখানে ভিআর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে দর্শনার্থীরা অতীতের বিশিষ্ট পণ্ডিতদের ‘জীবন্ত প্রতিকৃতির’ সঙ্গে কথোপকথনের অভিজ্ঞতা পাবেন। শিশুদের বিজ্ঞান, সাহিত্য, জ্যোতির্বিদ্যা ও শিল্পকলায় আগ্রহী করে তুলতেই এই উদ্যোগ। দ্বিতীয় তলা আন্তর্জাতিক গবেষকদের জন্য নির্ধারিত—যেখানে আধুনিক গ্রন্থাগারে রয়েছে দুই লাখের বেশি বই।
উজবেকিস্তান ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও ইসলাম তাদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সপ্তম শতকে ইসলাম আগমন থেকে শুরু করে নবম–১২ শতকের স্বর্ণযুগ পর্যন্ত অঞ্চলটি ছিল বিজ্ঞান, সাহিত্য ও স্থাপত্যকলার এক কেন্দ্রস্থল। সিল্ক রোডের মাধ্যমে এটি ছিল পূর্ব–পশ্চিম সংস্কৃতির মিলনমঞ্চ। পরে তিমুরিদ সাম্রাজ্যের সময়ে শিল্প–বিজ্ঞানে দ্বিতীয় রেনেসাঁ দেখা দেয়।
সোভিয়েত শাসনে ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ১৯৯১ সালে স্বাধীনতার পর উজবেকিস্তান আবারও তার ইসলামি সাংস্কৃতিক পরিচয় পুনরুজ্জীবিত করার পথে হাঁটছে—আর সিআইএসসি সেই পুনর্জাগরণের প্রতীক।