ইসলামী শরীয়তে বিচার ও দায়বদ্ধতার মূল নীতি হলো—জ্ঞান, বিবেচনা ও সক্ষমতার উপর দায়িত্ব নির্ভরশীল। তাই যে ব্যক্তি পরিস্থিতিগতভাবে দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম নয়, তার ওপর শাস্তি আরোপ বৈধ নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) হাদিসে তিন শ্রেণির মানুষের বিষয়ে ঘোষণা করেছেন—তাদের উপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ তাদের কোনো পাপ বা শাস্তির দায় প্রযোজ্য নয়। এ তিন শ্রেণি হলো: (১) নাবালেগ শিশু—যতক্ষণ না বালেগ হয়, কারণ তার বিচারবুদ্ধি পরিপক্ব নয়; (২) ঘুমন্ত ব্যক্তি—যতক্ষণ না জাগে, কারণ সে অচেতন অবস্থায় নিয়ন্ত্রণহীন; (৩) উন্মাদ বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি—যতক্ষণ না সুস্থ হয়, কারণ তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নৈতিক উপলব্ধি ব্যাহত থাকে। সুনানে আবু দাউদের বর্ণনায় আসে—ব্যভিচারের অভিযোগে এক নারীকে শাস্তির আদেশ দিলে আলী (রা.) জানান তিনি উন্মাদ, ফলে শাস্তি আরোপ করা ঠিক নয়, এবং উমর (রা.) সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। ফকিহদের মতে এটিই দায় অবসানের শরঈ ভিত্তি।
এ বিধান প্রমাণ করে—ইসলাম কঠোর শাস্তির ধর্ম নয়; বরং মানবিকতা ও ন্যায়বোধের ধর্ম। অপরাধ নয়, পরিস্থিতি বিবেচনা করে সংশোধনই ইসলামের লক্ষ্য। আজকের বিচারব্যবস্থায়ও এই নীতি সমান প্রাসঙ্গিক, যা ভুল দোষারোপ থেকে সমাজকে রক্ষা করে ন্যায় ও করুণার পথে পরিচালিত করে।