আন্তর্জাতিক জেন-জেড বিক্ষোভে মাদাগাস্কারের সরকার পতন

জেন-জেড বিক্ষোভে মাদাগাস্কারের সরকার পতন

সোশ্যাল শেয়ার

vob1

একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি—যখন বিদ্যুৎ আর পানির মতো মৌলিক চাহিদা মেটানো যায় না, তখন কী তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ রাস্তায় না নামার সুযোগ থাকে?
আর সেই ক্ষোভ যদি সরকারকেই কাঁপিয়ে তোলে—তাহলে আমরা কী শিখব?

ঠিক এমনটাই ঘটেছে আফ্রিকার দেশ মাদাগাস্কারে। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন শতাধিক। রাজধানী আন্তানানারিভোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে রাস্তায় নামে। তারা জীবনযাত্রার অবনতির বিরুদ্ধে, লোডশেডিং আর পানির সংকটের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে।

কিন্তু, পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে। রাজধানীতে সকাল-সন্ধ্যা কারফিউ জারি রয়েছে। একইসঙ্গে লুটপাট আর সহিংসতাও ছড়িয়ে পড়েছে।

এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই টেলিভিশনে ভাষণ দিয়ে প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা তার সরকার ভেঙে দেন। তিনি বলেন—সরকারের ব্যর্থতার জন্য আমরা ক্ষমা চাইছি। তরুণদের ক্ষোভ আমি বুঝতে পারছি।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, হতাহতদের মধ্যে সাধারণ মানুষও আছেন—কেউ পুলিশের গুলিতে, কেউ আবার সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও মাদাগাস্কারের সরকার এসব তথ্যকে ‘গুজব’ বলছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন—এটি প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। আফ্রিকার দরিদ্রতম রাষ্ট্রগুলোর একটি মাদাগাস্কার, যেখানে এখনো প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করেন।

আরও চমকপ্রদ হলো—এই আন্দোলনের পেছনে ছিল সোশ্যাল মিডিয়ার ডাক। আয়োজকরা বলছেন, তারা নেপাল, কেনিয়া ও মরক্কোর সাম্প্রতিক তরুণদের আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এমনকি আন্তানানারিভোর বিক্ষোভে নেপালের পতাকাও দেখা গেছে। প্রশ্ন হলো—বিদ্যুৎ আর পানির মতো মৌলিক চাহিদা যদি পূরণ না হয়, তবে কতদিন টিকে থাকতে পারে কোনো ক্ষমতা।

সোশ্যাল শেয়ার