বৈধ চাকরির খোঁজে রাশিয়ায় গিয়ে শত শত বাংলাদেশি যুবক এখন ইউক্রেন যুদ্ধের মর্মান্তিক শিকার! ওয়েল্ডিংয়ের কাজের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ময়মনসিংহের হাসান বা কবিরের মতো যুবকদের উচ্চমূল্যে দালাল চক্র রাশিয়ায় পাঠাচ্ছে, হাতিয়ে নিচ্ছে ৮-১০ লাখ টাকা। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে বাধ্য করা হচ্ছে রুশ সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধে যোগ দিতে।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া বাংলাদেশির সংখ্যা শতাধিক হতে পারে। রাজবাড়ীর নজরুল ইসলাম বা ময়মনসিংহের ইয়াসিন মিয়ার মতো কয়েকজনের মৃত্যুর খবর ইতোমধ্যে পরিবার পেয়েছে। এই ভয়াবহ মানবপাচার চক্রের কারণে পরিবারগুলো এখন মানসিক যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছে, প্রিয়জনের ফিরে আসার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে।
সিআইডি এই চক্রের তদন্ত শুরু করলেও, এটি এখন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—সুসংগঠিত পাচারের এক ভয়াবহ প্যাটার্ন। বৈধ ভিসায় গিয়েও জোরপূর্বক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার এই ঘটনা দেশের অভিবাসন ইতিহাসকে নাড়িয়ে দিয়েছে। উন্নত জীবনের আশায় বিদেশযাত্রা যেন পরিণত হচ্ছে মৃত্যুর পরোয়ানায়।