News কুয়েতে ২০ বছরে প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

কুয়েতে ২০ বছরে প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার

কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

উপসাগরীয় দেশ কুয়েতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অস্বাভাবিক মৃত্যুহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত ২০ বছরে দেশটিতে ৪ হাজার ৯৯৮ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। গড়ে প্রতি মাসে ২০ জনেরও বেশি প্রবাসীর মৃত্যু প্রবাসীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও কর্মপরিবেশের সংকটকে স্পষ্ট করে।

বর্তমানে কুয়েতে কর্মরত আছেন প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার বাংলাদেশি। দূতাবাস জানায়, করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাব থাকলেও মৃত্যুর প্রধান কারণ হৃদরোগ ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ। মহামারীর আগে মাসিক মৃত্যু গড় ছিল ১৪–১৫ জন, যা প্যান্ডেমিকের সময় বেড়ে দাঁড়ায় মাসে ৩৬ জনেরও বেশি। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৪৪০ জন প্রবাসী মারা যান—এর মধ্যে ১৯০ জন হৃদরোগে ও ১০৮ জন করোনাভাইরাসে। বাকি মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও অন্যান্য রোগ।

গত ২০ বছরের মোট মৃত্যুর মধ্যে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৫৪ জন; বাকিরা মারা গেছেন হৃদরোগ, ক্যানসার, আত্মহত্যা এবং কর্মক্ষেত্র–সম্পর্কিত জটিলতায়। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড জানিয়েছে, দেশে ফেরত আসা বহু প্রবাসীর মৃত্যুর কারণও ছিল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ; এদের অনেকের বয়স মাত্র ২৮ থেকে ৪০ বছর।

কুয়েতের কমিউনিটি নেতা আব্দুল হাই মামুন বলেন, অতিরিক্ত কাজের চাপ, বিশ্রামের অভাব, অনিয়মিত জীবনযাপন ও একাকীত্ব প্রবাসীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তিনি স্বাস্থ্যসচেতনতা, বিনামূল্যের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং শ্রমপরিবেশ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।

দূতাবাস জানায়, প্রবাসীদের মৃত্যুর পর দ্রুত মরদেহ দেশে পাঠাতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়; অনেক সময় ব্যয়ও দূতাবাস বহন করে। প্রবাসী নেতাদের মতে, বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি।

 

সোশ্যাল শেয়ার