News মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক এ কে খন্দকার আর নেই

মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক এ কে খন্দকার আর নেই

সোশ্যাল শেয়ার

মহান মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক, ‘কিলো ফ্লাইট’-এর কমান্ডার এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার, বীর উত্তম, বার্ধক্যজনিত কারণে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ কে খন্দকারের মৃত্যুর খবর জানিয়ে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “আব্দুল করিম খন্দকার, যিনি এ কে খন্দকার নামেও পরিচিত, একজন প্রকৃত বীর এবং সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ছিলেন। মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে তিনি নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। যুদ্ধের পর তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং জনজীবনে নানা দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন। আল্লাহ তাকে জান্নাতে সুন্দর একটি স্থান দান করুন।”

এ কে খন্দকার ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন প্রখ্যাত সেনানায়ক ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতীক। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনী থেকে বের হয়ে ভারতে যোগ দেন এবং মুজিবনগর সরকারের অধীনে মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে প্রশিক্ষণ ও অপারেশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে তার নেতৃত্বে গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম বিমান ইউনিট ‘কিলো ফ্লাইট’, যা সীমিত সম্পদের মধ্যেও শত্রুর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পুনর্গঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পাশাপাশি বাহিনীকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন। ২০১১ সালে তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়। ঢাকার কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটির নামকরণও তার নামে করা হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন এ কে খন্দকার। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পাবনা-২ (বেড়া–সুজানগর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ কে খন্দকার দুই ছেলে, এক কন্যা এবং তিন নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এর আগে গত ৮ জুন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার সহধর্মিণী ফরিদা খন্দকার ইন্তেকাল করেছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, দক্ষ সামরিক নেতা ও প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ককে হারাল।

সোশ্যাল শেয়ার