গাজার আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো বোমা বর্ষিত হচ্ছে। স্থল অভিযান, বিমান-ড্রোন হামলা, হাসপাতালে ওষুধ সংকট—এখানে চলছে মানবতার ভয়াবহ সংকট। অনাহারে মারা যাচ্ছে শিশুরাও। প্রশ্ন হলো—এ সংঘাত কখন থামবে, আর দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান কি বাস্তব?
ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দ্বি-রাষ্ট্র নীতিকে শান্তির উপায় হিসেবে দেখা হয়। সম্প্রতি ১০টি দেশ, যেমন যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ এখনও সমাধানের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা।
১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে ভাগ করে আরব ও ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেয়। ইহুদিরা তা মেনে নিলেও আরব লীগ প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র ঘোষণা করে এবং পরবর্তী যুদ্ধে ৭৭ শতাংশ এলাকা দখল করে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল হয়, গাজা মিশরের নিয়ন্ত্রণ থেকে আসে। ফলে ফিলিস্তিনিরা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ে।
১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি দুই রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও সীমিত স্বায়ত্তশাসনের পথ খুলেছিল। কিন্তু সহিংসতা, রাজনৈতিক বিভাজন এবং হামাসের বিরোধ এই প্রক্রিয়াকে ব্যর্থ করে। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা, সীমান্ত ও বসতি নিয়ে দ্বন্দ্ব—সবই সমাধানকে জটিল করেছে।
দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র হবে গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে। একটি করিডোরের মাধ্যমে সংযোগ থাকবে। জেনেভা অ্যাকর্ডে জেরুজালেমের ইহুদি অংশ ইসরায়েলের, ফিলিস্তিনি অংশ ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বড় বসতি, নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক বিভাজন সমস্যাকে দীর্ঘায়িত করেছে।
আজও ইসরায়েলের ডানপন্থি সরকার, হামাসের রাজনৈতিক অবস্থান এবং নিরাপত্তা চাওয়ায় দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান কার্যকর করা কঠিন। জাতিসংঘ, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া সমর্থন করলেও যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী। প্রশ্ন হলো—দ্বি-রাষ্ট্র নীতি কি কেবল কাগজে থাকবেই, নাকি সত্যিই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুলবে?