ইরানে ভঙ্গুর অর্থনীতি ও লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ এখন রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছে। গত ১৫ দিনের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩৮ জনে। গ্রেপ্তার হয়েছেন ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ। তেহরানের হাসপাতালগুলোতে লাশের ভিড়ে মর্গ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় নতুন মরদেহ গ্রহণ করা হচ্ছে না—ফেরত পাঠানো হচ্ছে লাশ। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত চিত্র জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ বলছে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। গত ২৮ ডিসেম্বর রিয়ালের রেকর্ড পতনের—এক ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার রিয়াল—প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট থেকেই এই বিক্ষোভের সূচনা। এরপর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন, যা এখন ইরানের ৩১টি প্রদেশে বিস্তৃত।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অর্থনৈতিক সংস্কারের আশ্বাস দিলেও বিক্ষোভকারীরা এখন সরাসরি রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে অনড়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে। ইরানের এই অস্থিরতা এখন গোটা বিশ্বের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।