মধ্যপ্রাচ্যে আবারও ভয়াবহ উত্তেজনা। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের তীব্র হামলায় এক শিশুসহ একদিনেই অন্তত ঊনচল্লিশ জন নিহত হওয়ার দাবি করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার পুরো দক্ষিণ লেবাননজুড়ে একের পর এক হামলা চালানো হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি ঘটে সাকসাকিয়েহ এলাকায়। সেখানে এক বালিকাসহ সাতজন নিহত এবং তিন শিশুসহ অন্তত পনেরো জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ শহরে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। মোটরসাইকেলে ছিলেন এক সিরীয় নাগরিক ও তার বারো বছর বয়সী মেয়ে। অভিযোগ করা হয়েছে, প্রথম হামলার পর তারা সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে আবারও আঘাত হানে ড্রোন। এতে বাবা নিহত হন। পরে তৃতীয় দফা হামলায় গুরুতর আহত হয় শিশুটি। বর্তমানে জীবন রক্ষাকারী অস্ত্রোপচার চলছে তার।
এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে। তবে বেসামরিক হতাহতের খবরও পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা। অন্যদিকে উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। এতে তিন সেনা আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার মধ্যেই ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাধারণ মানুষ। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ এবং লেবাননে হামলা বন্ধের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শত শত বিক্ষোভকারী। বিক্ষোভকারীরা সরকারের যুদ্ধনীতির তীব্র সমালোচনা করে নানা স্লোগান দেন। অনেকের হাতে দেখা যায় ‘গণহত্যা বন্ধ করো’ লেখা প্ল্যাকার্ড। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আন্তর্জাতিক চাপ, অন্যদিকে দেশের ভেতরে বাড়তে থাকা ক্ষোভ— সব মিলিয়ে বড় সংকটে পড়েছে নেতানিয়াহু সরকার।